এম এ আহাদ শাহীন : ১৫ নভেম্বর ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে বিএনপি এতে কোনো প্রতিনিধি দেবে না বলে সাফ জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৫ নভেম্বর ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠনে প্রতিনিধির নাম দেয়ার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কি না বা আমন্ত্রণ জানালে বিএনপি প্রতিনিধি দেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রী কার্যালয়ে সোমবার প্রথম দিনের হরতাল পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানোর জন্য এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এদিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানিয়েছে সচিবালয় সূত্র। এ সরকার গঠনের আগেই বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যরা পদত্যাগ করবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব আলোচনা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সর্বদলীয় সরকারের সদস্য হবেন। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে সর্বদলীয় সরকারের কাঠামো বাড়বে। সর্বদলীয় সরকারে নতুন মুখের প্রাধান্য থাকবে। নভেম্বরের শেষের দিকে নির্বাচনের তফসিল এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে নির্বাচনের সম্ভাবনা বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এদিকে, সর্বদলীয় সরকারের কাঠামো কী হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মন্ত্রী কিছু বলছেন না। তারা জানান, এটি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। তবে সর্বদলীয় সরকারে ১০ থেকে ২০ জন সদস্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি থাকলেও সর্বদলীয় সরকারের সদস্য হতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধী দলের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সাবধান থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সর্বদলীয় সরকার গঠনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সূত্র জানায়, বিএনপি হত্যা-সন্ত্রাসের মাধ্যমে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে, তারা নির্বাচনে আসবে না, তাই বিএনপির চিন্তা বাদ দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন