রাজাকারের নামে সড়ক সংস্কারে ২লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেন পেকুয়ার ইউএনও!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্বাধীনতা বিরোধী এক রাজাকার কমান্ডার প্রয়াত জামায়াত নেতার নামে সড়কের নামকরণ করে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দের ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজাকার কমান্ডারের নামে সড়কের নামকরণ ও ইউএনও‘র অবাক করা কান্ডে হতবাক হয়েছে পেকুয়ার
মুক্তিযোদ্ধের স্ব-পক্ষের লোকজন। মুক্তিযোদ্ধারা এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যক্ত করেছেন। আর ওই সড়ক সংস্কারের জন্য পেকুয়া উপজেলা ব্লক গ্রান্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটির (বিজিসিসি) গত মাসের ১২ জুন অনুষ্টিত সভায় পেকুয়ার ইউএনও মীর শওকত হোসেন ওই সড়ক সংস্কারের জন্য এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ২লাখ টাকা বরাদ্দ ও দিয়েছেন। স্থানীয়রা ওই সড়কের নাম পরিবর্তনের জন্য মৌখিকভাবে ইউএনও‘কে অবগত করলেও কোন কাজ হয়নি বলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেকুয়ার ইউএনও কর্তৃক রাজাকার কমান্ডারের নামে সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারী অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ ‘রাজাকারপ্রীতি’ ইউএনও‘র অপসারণ ও দাবী করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজাকার কমান্ডার ডা: মোক্তার আহমদ বিগত ২০১০ সালের অক্টোবরে মারা গেছেন।
      সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নে গ্রামীন রাস্তা-ঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে গত মাসের ১২ জুন পেকুয়ার ইউএনও এলজিএসপি‘র আওতায় প্রায় কোটি টাকার বেশি অর্থ ৫৩টি প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য অনুমোদন দেন। ওই প্রকল্পে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের সবজিবন পাড়া ডা: মোক্তার আহমদ সড়ক প্লাট সলিং দ্বারা উন্নয়ন করার জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা: মোক্তার আহমদ ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী বারবাকিয়া ইউনিয়ন শান্তি কমিটির সভাপতি ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। এ রাজাকারের অত্যাচারে সেসময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে আবার পালিয়েছিল। তার বাড়ীতে শান্তি কমিটির অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছিল। পরে দেশ স্বাধীন হলে ওই রাজাকার ডা: মোক্তার আহমদের দালাল আইনে জেল-জরিমানা ও হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আদালতে ওই রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা ও দায়ের করেছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙালী।   
       এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর পেকুয়া-চকরিয়া উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বাঙালী জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ওই ডা: মোক্তার আহমদ ১৯৭১ সালে বারবাকিয়া ইউনিয়ন শান্তি কমিটির সভাপতি ও রাজাকার কমান্ডার ছিল। তার হাতে এলাকার বহু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি আরো জানান, ডা: মোক্তার সরকারী তালিকাভূক্ত রাজাকার ছিলেন। এ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানান, একজন চিহ্নিত রাজাকারের নামে সড়ক নামকরণসহ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ইউএনও চরম দৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি এ ঘটনায় পেকুয়ার ইউএনও‘র অপসরাণও দাবী করেছেন। 
      বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা কমান্ড পেকুয়ার উপজেলা শাখার কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার নাথ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কোন দেশে আমরা বসবাস করছি। সরকার যখন রাজাকার-আলবদর ও মুক্তিযোদ্ধ বিরোধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে ঠিক এই মুহুর্তে পেকুয়ার ইউএনও রাজাকার কমান্ডারের নামে সড়ক নামকরণ করে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের সাথে বিরোধীতার শামিল। এ মুক্তিযোদ্ধা অবিলম্বে সরকারী উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবী করে এ ঘটনায় ইউএনও‘র শাস্তি দাবী করেছেন। 
       এ বিষয়ে জানার জন্য পেকুয়ার ইউএনও মীর শওকত হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই রাজাকারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, রাজাকার কমান্ডারের নামে সড়ক হলে অসুবিধাটা কোথায়। ইউপি চেয়ারম্যানরা এলজিএসপি প্রকল্পের তালিকা আমার নিকট প্রেরণ করলে সভা ডেকে সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পর ইউএনও আর কথা বলতে রাজি হননি।