ফাঁসির সেলে যেভাবে দিন কাটছে সাঈদীর

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির সেলে (কনডেম সেলে) একাকী বন্দি জীবন যাপন করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সম্প্রতি কারাগারের বন্দি জীবনের ১২০ দিন অতিবাহিত হয়েছে তার।
এরমধ্যে প্রায় দেড় মাসের মতো রয়েছেন কনডেম সেলে। কনডেম সেলে থাকা অবস্থায় সাঈদী অধিকাংশ সময় অসুস্থ থাকেন। বার্ধক্যে ডায়বেটিস ও হার্ট সমস্যা থেকে শুরু করে একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সাঈদী। কারাগারের কেন্দ্রীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ফাঁসির সেলে রুটিন মাফিক চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানায় কারা সূত্র।

সূত্র আরও জানায়, রেডিওতে খবর শুনে, পত্রিকা পড়ে, ইবাদত করে সময় কাটছে সাঈদীর। চিকিৎসকদের মতে, সাঈদীর শরীরে জটিল কোনো সমস্যা নেই। বাইরের হাসপাতালেও চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে চিকিৎসকরা পৃথকভাবে মন্তব্য করেন। 

এদিকে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ মামলার প্রস্তুতি ও দিকনির্দেশনার জন্য গত ২৩ জুন সাঈদীর সঙ্গে দুজন আইনজীবী সাক্ষা করেন। কারাগারের ফাঁসির সেলের সামনে দাঁড়িয়ে সাক্ষাতের নিয়ম থাকলেও তাকে সেল থেকে বের করে কারাগারের মূল গেটের পাশে একজন ডেপুটি জেলারের কক্ষে সাক্ষাৎপর্ব শেষ করা হয়। যা জেল কোডের পরিপন্থী বলেও জানা যায়। 


এসময় সাঈদী ওই আইনজীবীদের জানান, সাঈদী শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ঠিকমত খাবার খেতে পাচ্ছেন না। কারাগারের খাবারে তার কোনো রুচি আসে না। পরিমিত খাবার খেতে না পেরে সাঈদীর স্বাস্থ্য অনেকটা ভেঙে পড়েছে। শুকিয়ে গেছে তার দেহ। সাঈদীর বরাত দিয়ে আইনজীবীরা জানায়, কারাগারের আবদ্ধ দেওয়ালের মাঝে ফাঁসির সেল। সামনে রয়েছে ৩০ গজের করিডোর। এ ছোট স্থানে সাঈদীর হাঁটাহাঁটির কোন সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ বছর যাবত সাঈদী ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। হার্টে ৫টি রিং বসানো রয়েছে। শরীরের এ অবস্থায় হাঁটাহাঁটি করা সাঈদীর খুব প্রয়োজন বলে জানান। সাক্ষাতের সময় তিনি তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। কারাগারে বন্দি-ফাঁসির আদেশ মাথায় নিয়ে যিনি ১২০ দিন যাবত ফাঁসির সেলে, ফাঁসির পোশাকে কষ্টকর জীবন যাপন করছেন বলেও সাঈদী আইনজীবীদের জানান। পুত্র শামীম সাঈদী কোন কারাগারে কি অবস্থায় রয়েছেন সে খবরও নিয়েছেন সাঈদী। এবিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জনৈক কর্মকর্তা জানান, ফাঁসির সেলে সাঈদী সুস্থ এবং ভালো আছেন। বয়স বেশি হওয়ায় কিছুটা দুর্বল রয়েছেন। তবে তিনি অস্বাভাবিক রোগমুক্ত এবং জটিল কোনো সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।